নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর তীরে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পের প্রভাব ও পরিবেশগত ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার দাবিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ রোজ সোমবার বেলা ১১টায় মেঘনা ঘাটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নদীপাড়ের কৃষক, জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ভোগান্তি ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া কৃষকেরা জানান, শিল্পকারখানার বর্জ্য ও দূষণের কারণে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। সেচের পানিতে দূষণের প্রভাব পড়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক কৃষক জীবিকা হারিয়ে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলেদের অভিযোগ, নদীতে তেল, কয়লার ছাই ও শিল্পবর্জ্য মিশে যাওয়ায় মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় দিনের পর দিন জাল ফেলেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে তাঁদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে শিশু ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও পেটের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও প্রান্তিক মানুষের ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।
জেটনেট বিডি ও পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি সোনারগাঁ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক ভূইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মীযানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন পরিবেশ ও মানুষের জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ সাদেক ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোঃ রিপন ভূইয়া, পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মনির হোসেন, মওলানা আবু কাউসার বংবং মাওলানা ইব্রাহিম।
গণশুনানি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগ জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামত নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।